জামায়াত–এনসিপি জোট ইতিমধ্যে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছে। অন্য জোটগুলোতে আসন ভাগাভাগি নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা ও সমন্বয়হীনতা থাকলেও তাদের জোট নির্বাচনের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে আসন সমঝোতা প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম জানান, আগামী এক থেকে দুই দিনের মধ্যেই এনসিপি জোট কতটি আসনে নির্বাচন করবে, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে। তাঁর ভাষায়, জোটের ভেতরের সব প্রস্তুতি শেষ হয়েছে, কেবল ঘোষণাটিই বাকি রয়েছে।
শনিবার দুপুরে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রধান নির্বাচন পর্যবেক্ষক আইভার্স ইজাবসের নেতৃত্বে আগত নির্বাচন পর্যবেক্ষক প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন নাহিদ ইসলাম।
দেশে সমান নির্বাচনী পরিবেশ বা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আস্থার সংকট রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন এনসিপির এই নেতা। তাঁর অভিযোগ, একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলকে সরকারি সুযোগ–সুবিধা ও প্রটোকল দেওয়ার ফলে প্রশাসনের ভেতরে পক্ষপাতের বার্তা ছড়াচ্ছে, যা নির্বাচনী মাঠে অসম পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমাদের মনে হচ্ছে, বিশেষ একটি রাজনৈতিক দলকে সরকারিভাবে অতিরিক্ত সুযোগ–সুবিধা, বিশেষ করে প্রটোকল দেওয়ার মাধ্যমে একধরনের সিগন্যাল দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বাধাগ্রস্ত হতে পারে এবং প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে এমন বার্তা যেতে পারে যে সরকার কার পক্ষে অবস্থান করছে।’
মিডিয়ার ভূমিকা নিয়েও অভিযোগ তোলেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, এনসিপি সম্পর্কে মূলধারার গণমাধ্যমে নেতিবাচক ও বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। বিশেষ কয়েকটি গণমাধ্যমে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এমন খবর প্রচার করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। এ ক্ষেত্রে প্রশাসন ও গণমাধ্যম—উভয় ক্ষেত্রেই সমান সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি জানান এনসিপি নেতা, যা সরকার ও নির্বাচন কমিশনের কাছেও বারবার তুলে ধরা হয়েছে বলে জানান তিনি।
ঋণখেলাপি প্রার্থীদের বিষয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ঋণখেলাপি প্রার্থীকে প্রাথমিকভাবে বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে, যদিও প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি। তুলনামূলকভাবে অল্প কয়েকজনকে বাদ দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি নির্বাচন কমিশনের আরও কঠোর অবস্থান প্রত্যাশা করেন।
তিনি আরও জানান, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ইউরোপীয় ইউনিয়ন একটি বড় পর্যবেক্ষক দল পাঠাতে যাচ্ছে। ইইউ চায় নির্বাচন যেন সুষ্ঠু, প্রতিযোগিতামূলক ও গ্রহণযোগ্য হয়, যাতে ফল ঘোষণার পর গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর সম্ভব হয়। এ লক্ষ্যে সব রাজনৈতিক দলের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেছে সংস্থাটি।
নিরাপত্তা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদিকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যার ঘটনায় নির্বাচনী পরিবেশে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। এখনো হত্যাকারীরা গ্রেপ্তার না হওয়ায় সার্বিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ রয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।